চুয়াডাঙ্গা | ৬ জুলাই ২০২৬: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত বিতর্কিত নিউ অ্যাপেলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে অভিযানের খবর আগেভাগেই জানতে পেরে ক্লিনিকের মালিক এবং অভিযোগ অনুযায়ী ভুয়া সনোলজিস্ট হিসেবে পরিচিত আক্তারুজ্জামান প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান। অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএমডিসি (BMDC) নিবন্ধিত চিকিৎসক বা অনুমোদিত সনোলজিস্ট না হয়েও আক্তারুজ্জামান নিজেই রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করছেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা ক্লিনিকে পৌঁছে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর আগে থেকেই পেয়ে যান ক্লিনিক মালিক। পরে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৫ জুন একই ক্লিনিকে অপারেশন চলাকালে রোগীকে রেখে চিকিৎসকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর ১১ জুন ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে সিলগালা করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পরবর্তীতে আবারও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম বলেন, লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি বা ভুয়া সনদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় মালিকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, বারবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ক্লিনিক মালিকের এমন কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার সাহস না পায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।