গোপালগঞ্জ | ৬ জুলাই ২০২৬: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং অপরাধে সহায়তার দায়ে কল্পনা বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রধান আসামিকে এক লাখ টাকা এবং সহায়তাকারীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) গোপালগঞ্জের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করতেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কল্পনা বিশ্বাস তালের পিঠা তৈরির কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে উজ্জ্বল বিশ্বাস তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় কল্পনা বিশ্বাস অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৪ মার্চ পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মামলাটি নবগঠিত শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রধান আসামি উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ধর্ষণের দায়ে এবং কল্পনা বিশ্বাসকে অপরাধে সহায়তার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত প্রধান আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা এবং সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

আইনজীবীরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধে আদালতের এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।