চট্টগ্রাম, পটিয়া | ৫ জুলাই ২০২৬: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের উত্তর ঈশ্বরখাইন এলাকায় এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ জুলাই) সকালে আট বছর বয়সী এক শিশু শারীরিক ব্যথার কথা তার মাকে জানায়। প্রথমে পরিবার বিষয়টিকে অন্য শারীরিক সমস্যা মনে করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

এরপর শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানায়, সে যে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে, সেখানে শিক্ষক আজিজ উল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি হিফজ মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মাদ্রাসার পরিচালক আবদুল্লাহ বলেন, “বর্তমানে আমার মাদ্রাসায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আগে জানতে পারিনি।”
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে আদালতে পাঠায়। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে রাজি না হওয়ায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীর অভিভাবক সাংবাদিকদের জানান, তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করেছেন এবং বর্তমানে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অভিযোগের পরও বিষয়টি পারিবারিক সমঝোতায় শেষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই অভিযুক্তের দায় নির্ধারিত হয়।