২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় রোববারের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে দুই দলের এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা, গতি এবং শারীরিক শক্তির কারণে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড হিসেবে বিবেচিত হালান্ডকে ঘিরেই নিজেদের ম্যাচ পরিকল্পনা সাজিয়েছে ব্রাজিল। দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, হালান্ডকে আটকাতে তার ডিফেন্ডারদের বাড়তি মনোযোগী থাকতে হবে।
আনচেলত্তি বলেন, “হালান্ডকে সবাই চেনে। আমার ডিফেন্ডারদের আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তারা তার বিপক্ষে বহুবার খেলেছে। তবে তার শক্তি ও গোল করার সামর্থ্য সম্পর্কে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, কারণ সে অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন ফরোয়ার্ড।”
ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেসও মনে করেন, হালান্ডকে বলের জোগান বন্ধ করে দেওয়াই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। তার ভাষায়, “আমরা চেষ্টা করব বল যেন তার কাছে সহজে না পৌঁছায়। একই সঙ্গে সবসময় একজন খেলোয়াড় তাকে মার্কিং করবে, যাতে সে কোনো ফাঁকা জায়গা না পায়। কারণ আমরা জানি, একটি সুযোগ পেলেই সে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে।”
নরওয়ের উচ্চতা নির্ভর ফুটবল এবং সেট-পিসের দক্ষতা নিয়েও সতর্ক রয়েছে ব্রাজিল। গিমারেস জানিয়েছেন, কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে দলটি পুরো সপ্তাহজুড়ে বিশেষ অনুশীলন করেছে।
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের বক্সে প্রচুর বল পাঠাবে এবং প্রতিটি সেট-পিস থেকে গোল করার চেষ্টা করবে। তাদের এই শক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এটি নিঃসন্দেহে কঠিন এবং স্নায়ুচাপের একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে নরওয়ে আশা করছে, হালান্ডের গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারবে।