কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ | ৩ জুলাই ২০২৬: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১১) বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার বিলম্বিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের পং মসুয়া গ্রামে গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া শিশুটিকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো ও ফটকা (বাজি) ফোটানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং বলাৎকারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য শিশুটি অভিযুক্তের হাতে কামড় দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। এমনকি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে শিশুটির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

এরপর ভুক্তভোগী শিশুর মা কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত শিশুটির বাবা বলেন, “আমি একজন প্রবাসী। পরিবারের নিরাপত্তার জন্যই বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছি। অথচ দেশে আমার সন্তান নিরাপদ নয়। আমি কোনো ধরনের আপস চাই না; অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ঘটনার পর থেকে আমার সন্তান ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না।”

তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনের প্রতি সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযুক্তকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট দলের কটিয়াদী উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে আর কোনো কল রিসিভ করেননি।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থাকায় এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার অবস্থান শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।