রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী | ৩ জুলাই ২০২৬: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামের সৌরভ হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের রাহিমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পরিবারের নজরে এলে রাহিমার পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে সম্পন্ন করে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পরও সৌরভ রাহিমার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সৌরভ হাওলাদার নিজ বাড়ির পাশের একটি গাছে রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সৌরভের মামা রুবেল গাজীর নেতৃত্বে ৮-১০ জন রাহিমার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি রাহিমার বাবা রফিক গাজী গুরুতর আহত হন। এছাড়া পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।

গুরুতর আহত রফিক গাজীকে প্রথমে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

রাহিমার মা অভিযোগ করে বলেন, দুই দিন আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এরপরও সৌরভ বারবার ফোনে যোগাযোগ করে বিরক্ত করছিলেন। এর জের ধরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৌরভের মামা রুবেল গাজী মুঠোফোনে বলেন, “আগে রোগী সুস্থ হোক, তারপর আমি সব বিষয় জানাব।”
রাঙ্গাবালী থানা সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।