চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ মেজবাহ উদ্দিন রাসেল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবহারকারী একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন রাতে বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাককে কৌশলে চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা মৌলভীবাজার এলাকায় ডেকে আনা হয়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাকচালক ইব্রাহিম খলিল ও তার সহকারী সাইফুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাটহাজারীর নজুমিয়ারহাট এলাকায় নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ট্রাকচালককে মারধর করা হয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এরপর ১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা ইউসেপ স্কুলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করলে মেজবাহ উদ্দিন রাসেলকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনের তত্ত্বাবধানে এবং চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আসামির দেখানো মতে মধ্যম মোহরা ইউসেপ স্কুলসংলগ্ন ছদরিয়া জামে মসজিদের কবরস্থানের দেয়ালের পাশে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মেজবাহ উদ্দিন রাসেলের বাড়ি চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট খেজুরতলা পাঠানপাড়া এলাকায়। পুলিশের দাবি, তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চান্দগাঁওসহ চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে


উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং মোট ৫ রাউন্ড তাজা গুলি।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ।