ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একই বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একদিনের মধ্যে সিলেট থেকে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও এর পেছনে কোনো মানবপাচার চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রাণী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জিডির ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস জানান, বুধবার (১ জুলাই) সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে চার শিক্ষার্থীকে বাসের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালায়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা এর আগে ঢাকায় গিয়েছিল। পুলিশ ধারণা করছে, তারা কোনো মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনের শিকার হতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারের বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। শিক্ষার্থীরা কীভাবে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা হয়ে সিলেটে পৌঁছাল, কারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চার শিক্ষার্থীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তদন্তে মানবপাচারকারী চক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের টার্গেট করা সক্রিয় অপরাধচক্র সম্পর্কে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।