কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সুপারি বাগানের আড়ালে গোপনে গাঁজার চাষের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুর গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এবং ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মো. শবেদ আলীর ছেলে মো. মাজেদুল ইসলাম মঞ্জুর মালিকানাধীন দুটি পৃথক সুপারি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দুটি এবং প্রায় ২ ফুট উচ্চতার আরও দুটি গাঁজা গাছ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে না থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত।
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ সুপারি বাগান থাকায় কিছু মাদক কারবারি এসব বাগানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে গাঁজার চাষ করছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক উৎপাদন, বহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।