টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আমন ধানের বীজতলা, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামানিক জানান, তার তিন বিঘা জমির পাট পানিতে ডুবে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই গ্রামের কৃষক রফিক মণ্ডল বলেন, তার ৪০ শতাংশ জমির সবজি আংশিক তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পুরো ক্ষেতই ডুবে যাবে।
পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, যমুনা নদীসংলগ্ন চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হেক্টর জমির পাট, আমন ধানের বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান জানান, বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন পানি আরও বাড়তে পারে এবং যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং দ্রুত পানি কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।