কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় কৃষক শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কের পাশে শফিকুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শফিকুল ইসলাম উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
ঘটনার পরপরই কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া একই গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে এবং নিহতের চাচাতো ভাগনে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
বুধবার বিকেলে অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকার একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় করেন। এ সময় এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বাদী হয়ে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাদী বেগম আক্তার অভিযোগ করেন, বাবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হতো। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে শুধু বাবুল নয়, আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।