চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে সোহান (নাম জানা গেছে) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের পর হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে ওঝার ঝাড়ফুঁকে সময়ক্ষেপণ করায় চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মল্লিক ছোবাহান এলাকার বাসিন্দা সোহানকে সোমবার দুপুরে একটি বিষধর গোখরা সাপ কামড় দেয়। ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে প্রথমে একজন ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁক ও বিভিন্ন লোকজ পদ্ধতিতে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, বিষধর সাপের কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা জরুরি। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল সাপের কামড়ের ঘটনায় কুসংস্কার, ঝাড়ফুঁক কিংবা ওঝার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত সরকারি বা বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের কামড়ের পর রোগীকে শান্ত রাখা, আক্রান্ত অঙ্গ যতটা সম্ভব স্থির রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ঝাড়ফুঁক বা বিলম্বিত চিকিৎসা প্রাণঘাতী হতে পারে।