উদ্বোধনের আগেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার নবনির্মিত আধুনিক পৌর শিশু পার্ক। প্রায় ১৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিবচর পৌরসভার বরদোয়ালী এলাকায় প্রায় ৫ একর জমির ওপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে পার্কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পৌরসভার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি শিবচরসহ আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও পরিবারগুলোর জন্য আধুনিক বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে পার্কের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শিশু, কিশোর, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উদ্বোধনের আগেই পার্কের আকর্ষণীয় অবকাঠামো এবং আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থাপনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
থাকছে ১৪টি আধুনিক রাইড
পার্কে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৪টি আধুনিক রাইড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
– নাগরদোলা
– জাম্পিং ক্যাঙ্গারু
– বাম্পার কার
– হ্যাপি সুইং
– বিশাল যান্ত্রিক দোলনা
– নাইনটি মুভি রাইড
– শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক খেলাধুলার ব্যবস্থা
এছাড়াও পুরো পার্কজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপিং, হাঁটার পথ, বসার স্থান, সবুজায়ন ও আলোকসজ্জা।
শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পার্ক শুধু বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবেই নয়; শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উদ্বোধনের অপেক্ষা
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী এক মাসের মধ্যেই পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
নিরাপত্তায় আধুনিক ব্যবস্থা
পার্কটির নির্মাণকার বাস্তবায়ন করছে রাজধানীর বিজয়নগরভিত্তিক শরীফ অ্যান্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
নতুন বিনোদন কেন্দ্রের প্রত্যাশা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্বোধনের পর শিবচর পৌর শিশু পার্ক শুধু মাদারীপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে। এতে স্থানীয় পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।