জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২৫ জুন) সকাল ১১টায় ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।

আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, অপুষ্টি দূরীকরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ভোলা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী ২৭১ জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ১২৭ জন, সিএইচসিপি ২২১ জন এবং স্বেচ্ছাসেবক ২,২১৬ জন দায়িত্ব পালন করবেন। জেলার ৭টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ২২৮টি ওয়ার্ডসহ দুর্গম অঞ্চলেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এছাড়া ভোলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ইতোমধ্যে ১,৬৮৯টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইপিআইয়ের নিয়মিত সেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় ৬–১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, যারা নির্ধারিত দিনে ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারবে না, তাদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালগুলোতে পরবর্তী সময়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ থাকবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা বর্তমানে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন নামে পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে।