নড়াইল | ২০ জুন ২০২৬ : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে সংঘটিত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী পাটেশ্বরী গ্রামের নিরীহ বাসিন্দাদের জড়ানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পাটেশ্বরী গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম শেখ, স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান, জাকির হোসেন, রাসেল ফকিরসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সাতবাড়িয়া গ্রামের ফারাজি ও মোল্যা বংশের মধ্যে জমি মাপঝোককে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ বিরোধ সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটনার পর উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও ফারাজি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পার্শ্ববর্তী পাটেশ্বরী গ্রামের কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে জড়িত বলে দাবি করছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং সংঘর্ষের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। অথচ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউপি সদস্য সেলিম শেখ বলেন, “সাতবাড়িয়া গ্রামের মোল্যা ও ফারাজি বংশের মধ্যকার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এ ঘটনায় পাটেশ্বরী গ্রামের নিরীহ মানুষকে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে মানবিক কারণে আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের মোল্যা বংশের লোক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে এবং মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।”

বক্তারা আরও বলেন, সাতবাড়িয়া গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধের দায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।