লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১৯ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আব্বাস আলীর বদলির খবরে স্থানীয় জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলতা, সততা, মানবিকতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্বাস আলী ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ সালে চুনতি পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেননি, বরং ফাঁড়ির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তার উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি নতুন রূপ লাভ করে। কনস্টেবল ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ এবং দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকা ইবাদতখানার (নামাজের স্থান) সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি ফাঁড়ির সার্বিক পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি বদলির আদেশ হাতে পান। নতুন কর্মস্থল হিসেবে তাকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার আইসি শিলক তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদলি প্রসঙ্গে আব্বাস আলী বলেন, “পুলিশ বিভাগে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেখানেই সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব। চুনতির মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি সবসময় স্মরণে রাখব।”

সহকর্মীদের মতে, আব্বাস আলী ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও সৎ একজন কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কখনো অবহেলা করেননি এবং অধীনস্থ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সর্বদা আন্তরিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্বাস আলী শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি ছিলেন জনগণের আস্থার প্রতীক। সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, বিনয়ী আচরণ এবং মানবিক মনোভাবের কারণে তিনি অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও সাদাসিধে ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং মানুষকে নৈতিকতা, সততা ও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করতেন।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার শিলক তদন্ত কেন্দ্রেও তিনি একই নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করবেন। চুনতিবাসীর অনেকে বলেন, “আব্বাস আলীর মতো একজন মানবিক ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রশাসনিক নিয়ম হলেও, তার বিদায়ে চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি ও এলাকার মানুষের মাঝে একটি শূন্যতা তৈরি হবে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”