লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম | ১৯ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে—এমন একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অডিওটির সত্যতা এবং এতে শোনা কণ্ঠগুলোর পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের হতে পারে। তবে অপর ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফাঁস হওয়া অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব কেন এসেছে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।”
এর জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরও লোকজনের চাপে আসে।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে অপর ব্যক্তি বলেন, “বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকব।” জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তি বলেন, “এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।”
অডিওতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত সহকারীর কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অডিওতে শোনা অপর ব্যক্তি লোহাগাড়া এলাকায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠজন হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরমান উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনো কোনো অডিও লিংক বা এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।”
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।”
লোহাগাড়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য তাদের কাছে এখনো আসেনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অডিওটির সত্যতা, এতে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি উঠছে।