চট্টগ্রাম | ১৯ জুন ২০২৬ : প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence-AI) শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশ্বমানের “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্বাক্ষরতা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ” কর্মসূচির চতুর্থ দফা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষানন্দ স্কুলের হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠান, সনদপত্র বিতরণ এবং অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণটি হাতে-কলমে পরিচালনা করেন ব্র্যাকের প্রশিক্ষক বিন্তু বনিক। তিনি অংশগ্রহণকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, শিক্ষা ক্ষেত্রে এআই-এর কার্যকর ব্যবহার, আধুনিক ডিজিটাল টুলস প্রয়োগ, কনটেন্ট তৈরির কৌশল এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কাজী সরোয়ার খান মনজু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মিসেস মালেকা আনোয়ার মায়া, নির্বাহী সদস্য উম্মে সালমা, শিক্ষানন্দ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলেয়া বেগম এবং দি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক জেবুন্নেছা বেগম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী সরোয়ার খান মনজু বলেন, “বর্তমান যুগে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কল্পনা করা যায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আমাদের শিক্ষকদের এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলে শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের শিক্ষায় আরও এগিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এআই ও ডিজিটাল শিক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হলে দেশের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।