চট্টগ্রাম, পটিয়া | ১৮ জুন ২০২৬ : চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু জায়হানকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার পটিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল এলাকার গ্যারেজ মালিক শাহজাহানের ছেলে জায়হান (৫) গত ১৬ জুন নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু হয়। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একটি যৌথ টিম শিশুটিকে উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানের এক পর্যায়ে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ময়লার স্তুপ থেকে জায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন— সাইফুল, শাহনুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে অপহরণের পর হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অর্থের লোভে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। তারা আরও জানান, অভিযুক্তরা শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার পর খোঁজাখুঁজির নাটক করে পরিবারের পাশে থাকার ভান করেছিল।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটিয়া থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী-পুরুষসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “ভোরবেলায় শিশুটির বাড়ির পেছনের ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “কোনো পিতা-মাতা সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কামনা করেন না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”
এদিকে শিশু জায়হানের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পরিচালনা করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।