চট্টগ্রাম | ১৭ জুন ২০২৬: চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার, মোবাইল ফোন, পার্স ব্যাগ এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিএমপি উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তদন্তে অংশ নেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. রিয়াদ উছ সালেহীন, এসআই আল-আমিন খান, এসআই শওকত ইমামসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
মামলার বাদী গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন রুপনগর ক্লাব সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকার নাহার ভিলার তিনটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। গত ৭ জুন গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে থাকাকালে দুর্বৃত্তরা একটি ফ্ল্যাটের জানালার রড ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
ভোররাতে বাদীর সাড়ে চার বছর বয়সী কন্যা জারিকা ইমানী বাসার ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে তারা দেখতে পান, বিভিন্ন কক্ষের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে এবং একাধিক ফ্ল্যাট থেকে স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ডের আংটি, রুপার অলংকার, মোবাইল ফোন, বিদেশি পার্স ব্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
ঘটনার পর ১০ জুন পাঁচলাইশ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ জুন রাতে হাটহাজারী উপজেলার মীরেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. খোরশেদ (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে চোরাইকৃত একটি অপ্পো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিম্ফনি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে খোরশেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ জুন সকালে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কোনাগাঁও এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেন (৩৮) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী একই দিন রাতে নগরীর কোতোয়ালী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারের গলিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া খুলশী থানার আমবাগান নালাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ৪ ভরি ৯ আনা ওজনের স্বর্ণের গলিত অংশ, চারটি রুপার কয়েন, রুপার চেইন, নুপুর, দুটি লেডিস পার্স ব্যাগ এবং নগদ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।