Puthia Upazila-এ জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, উচ্ছেদ এবং মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১২ তারিখ সকাল ১১টার দিকে একটি পক্ষ দলবল নিয়ে এসে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রাসন্তি জানান, তিনি পৈতৃক জমিতে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ এসে তার বাড়িঘর ভেঙে দেয় এবং ঘরে থাকা সবকিছু নিয়ে যায়। একই ধরনের অভিযোগ করেন কাকলি নামের আরেক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে বসার কথা থাকলেও কোনো আলোচনা ছাড়াই হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

প্রতিবেশী বাসন্তী বলেন, তিনি ও তার মেয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় দলবল নিয়ে এসে কোনো কথা ছাড়াই হামলা চালানো হয় এবং সবকিছু নিয়ে চলে যায়।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী বাবলু সরকার জানান, হামলার সময় তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

মামলা ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার ধোগ্রাকুল মৌজার আরএস খতিয়ান ও দাগ সংক্রান্ত প্রায় ৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ দাবি করছে এটি তাদের বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি, অন্য পক্ষ পূর্বের বিক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্রের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে।

সেলিনা সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ঘরে থাকা প্রায় ১ লাখ টাকা ও প্রায় ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা বলেন, “আমরা কাগজপত্র দেখে কথা বলবো, আগে দলিল দেখাতে হবে।” তবে তার স্ত্রী বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা আংশিকভাবে স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Puthia Police Station-এর অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Upazila Nirbahi Officer (UNO), Puthia জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।