গোপালগঞ্জ | ১৬ জুন ২০২৬ : গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড, কিট প্যারেড ও কল্যাণসভা সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্যারেডে সালামি গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ। তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী অফিসার ও ফোর্সের শারীরিক ফিটনেস, টার্নআউট এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে আরও পেশাদার ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে পুলিশ সুপার উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ড্রেসরুলস অনুসরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, জনসাধারণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মাস্টার প্যারেডে প্যারেড অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবেশনার) রনি হাওলাদার।
পরে অনুষ্ঠিত কিট প্যারেড ও কল্যাণসভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা, কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও কর্মস্পৃহার জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, প্রসিকিউশন দাখিল, মামলা নিষ্পত্তি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদনের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণকারী ইন্সপেক্টর সৈয়দ এমদাদুলকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর কর্মজীবনের অবদানের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ নাফিসুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) রনি হাওলাদার, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস প্রবেশনার) এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের এই আয়োজন সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন