ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ | ১৫ জুন ২০২৬ : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কিশোরীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ)-এর আওতায় হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক আয়বর্ধক কার্যক্রম (আইজিএ) প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৫ জুন) উপজেলার দৌলতপুর ব্র্যাক অফিস হলরুমে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের মাঝে সনদপত্র (সার্টিফিকেট) বিতরণ করা হয়।

প্রশিক্ষণে উপজেলার ১০টি স্বপ্নসরথি দল থেকে নির্বাচিত ৩২ জন কিশোরী অংশগ্রহণ করেন। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমে যুক্ত হলে তারা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে পারবে।”

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের গৃহপালিত প্রাণী ও পাখি পালন, পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং লাভজনক খামার পরিচালনা সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশলও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক মাইক্রোফিন্যান্স কর্মসূচির এরিয়া ম্যানেজার সুবর্ণা রানী ঘোষ উপস্থিত থেকে জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ব্র্যাকের মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা প্রদান করা হবে।

এ সময় সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির কর্মকর্তা নূর নাহার কিশোরীদের ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের বিভিন্ন উদ্যোগ, নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা বলেন, এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। তারা নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

স্থানীয়রা মনে করেন, কিশোরীদের আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।