রাজশাহী | ১৫ জুন ২০২৬ : রাজশাহীকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য এবং দুর্নীতিমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, রাজশাহীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের গ্রহণ করা পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবং দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যান অনুসরণ করে রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা হবে।
আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাজশাহী গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে, উন্নত নাগরিক সুবিধা পাবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, আরডিএ’র সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। নাগরিকরা যেন দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পায় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, আরডিএতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অতীতে সংঘটিত যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন এবং উপস্থিত অতিথি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের স্মারক হিসেবে আরডিএ কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
রাজশাহীর নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নতুন চেয়ারম্যানের এ অঙ্গীকার নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।