চট্টগ্রাম নগরীতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান-কে মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সিএমপির বিশেষ শাখার পরিদর্শক জাহিদুল কবিরকে বাকলিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে বহনকারী একটি অটোরিকশা থামায় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্রিকেটার নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পরও তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের সোর্স সোহেলকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।