চকরিয়া, কক্সবাজার | ১৪ জুন ২০২৬ : কক্সবাজারের চকরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণ, লবণ চাষিদের জন্য প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম মূল্য ১৫ টাকা নির্ধারণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড প্রদানের মতো একাধিক যুগান্তকারী উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র এবং মহেশখালী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের লবণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং লবণ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর অংশ হিসেবে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম মূল্য ১৫ টাকা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেট দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি সিগারেট ও মাদকদ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধিকে জনস্বার্থে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানান। এসব উদ্যোগ তার ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির অংশ বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তিনি নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পেকুয়া উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন।
সফরকালে তিনি দুলহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, বালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং দ্বিতীয় শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়দের মতে, ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, লবণ শিল্প এবং পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।