চট্টগ্রামের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে শিবকল্প মহাযোগী ত্রিকালদর্শী পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ১৩৬তম তিরোধান উৎসব।

উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়ার রাধাকৃষ্ণ বিশ্বাসের বাড়িতে গত ১১ ও ১২ জুন দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাবার শুভ অধিবাস, ঘট স্থাপন, সন্ধ্যা আরতি, শীতল ভোগ নিবেদন, ভাগবত পাঠ, চণ্ডীপাঠ, ভোগারতি কীর্তন, পাল্টা কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন রাউজান উত্তর গুজরা নব বারদী কৈলাস ধামের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ওঁকারনাথ ব্রহ্মচারী। শুভাশীর্বাদ প্রদান করেন নব বারদী কৈলাস ধামের উপাধ্যক্ষ শ্রীমৎ দয়ানাথ ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ রাজেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী এবং বীরপুরুষ ব্রহ্মচারী (রামপ্রসাদ)।

এসময় ভাগবত পাঠ করেন ভক্তপ্রবর শ্রী নিতাই পদ তালুকদার এবং পূজা-পৌরহিত্যের দায়িত্ব পালন করেন আশুতোষ চক্রবর্ত্তী। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ পরিবেশন করেন রাখাশ সরকার ও তাঁর দল।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাত্রিকালীন পাল্টা কীর্তন। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বিকাশ দত্ত ও নিরঞ্জন সরকার। তাঁদের পরিবেশনা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে গভীর ধর্মীয় আবেগ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ সমরনাথ ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ প্রেমানন্দ ব্রহ্মচারী, বাবলা সাধু, বিজয় বিশ্বাস, প্রকাশ দত্ত, প্রিন্স চৌধুরী (শুভ), জনি চক্রবর্ত্তী, সঞ্জয় বিশ্বাসসহ বিভিন্ন মঠ ও মন্দির থেকে আগত সাধু-সন্ত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার আদর্শ, মানবসেবা ও মানবকল্যাণমূলক বাণী সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ তিরোধান উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।