মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমধর্মী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় ফলের পরিচিতি, পুষ্টিগুণ এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজন করা হয় এ উৎসবের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে উৎরাইল প্রি-ক্যাডেট স্কুল। গ্রামের শিশুদের আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসলেহ আলম চৌধুরী।
শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা মধুমাস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ফল উৎসবের।
উৎসবে আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, তরমুজ, আনারস, পেয়ারা, কলাসহ বিভিন্ন দেশীয় মৌসুমি ফল প্রদর্শন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এসব ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পরিবেশের সঙ্গে ফলজ গাছের সম্পর্ক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে ফল পরিবেশন ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের দেশীয় ফল সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তারা পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব বুঝতে পারছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছ লাগানোর বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে। গ্রামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন মীর বলেন, “আমরা চাই শিশুরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করুক তা নয়, তারা যেন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠে। পড়াশোনার পাশাপাশি আদব-কায়দা, সুন্দর আচরণ, দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর চেষ্টা করছি। ফল উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ সৃষ্টি করেছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশুদের দেশীয় ঐতিহ্য, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।