রাজশাহী | ১২ জুন ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এক অটোচালকের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলার আসামি পাভেল ইসলাম মিমুলকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর মতিহার থানার কাজলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মিমুল নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী বাবর আলী সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং টুলুর ছেলে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে কাজলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভুক্তভোগী অটোচালক মঞ্জুর মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মতিহার থানার মামলা নং-১৮ হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অটোচালক মঞ্জুর কাটাখালী থানা এলাকার একটি গ্যারেজে তার মহাজনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে আনার জন্য তিনি বন্ধু মিলনের সহযোগিতা চান।

এ সময় মিলনের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া পাভেল ইসলাম মিমুল নিজেকে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং একটি জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দ্রুত অটোরিকশা ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দিলে মঞ্জুর তার হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও মঞ্জুর তার অটোরিকশা ফেরত পাননি। পরবর্তীতে মিমুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরদিন ২২ মে রাতে যোগাযোগ করা হলে মিমুল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর মঞ্জুর মতিহার থানায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নজরদারির পর অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত মিমুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মতিহার থানার ওসি মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তের গ্রেফতারের খবরে ভুক্তভোগী অটোচালক ও তার পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা রাজশাহী মহানগর পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন।