ঝালকাঠি | ৯ জুন ২০২৬:
ঝালকাঠির একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর খাল না থাকলেও কোটি টাকার একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই পাশে বসতবাড়ি থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ সংকুচিত বা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলজিইডি ঝালকাঠি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানপাশা জিসি-তালতলা-ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কের সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় বিডিআইআরডব্লিউএসপি প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যেখানে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে পূর্বে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। বর্তমানে সেতু নির্মাণের ফলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল ও সবুজ বলেন, “সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আমাদের বাড়ির সামনের অংশ ব্যবহার করা হলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। আমরা বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।”
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম।
তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক জানান, পূর্বে একটি কালভার্টের স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু কারিগরি ও স্থানীয় জটিলতা দেখা দিলেও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত জরিপ ও পরিকল্পনা হলে বর্তমান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতো।