মানিকগঞ্জ | ৮ জুন ২০২৬ : মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি মাঠে জৈব পদ্ধতিতে রকমারি ধান চাষ গবেষণার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টায় কৃষক নেতৃত্বাধীন প্রায়োগিক ধান গবেষণা প্লটে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে বরুন্ডি কৃষক সংগঠন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক।
মাঠ দিবসে গবেষণা প্লটে চাষকৃত ৭২টি ধানের জাত পর্যবেক্ষণ করে এলাকার জলবায়ু ও মাটির সঙ্গে উপযোগী জাত বাছাই করেন কৃষকরা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ২৬ জন কৃষক গোসাই, রাজভোগ, ডিএস-১, সুশীল, এম-২৫২সহ কয়েকটি সম্ভাবনাময় ধানের জাত নির্বাচন করেন।
কৃষকদের মতে, কম খরচে অধিক উৎপাদন, কম পানির প্রয়োজন, রোগ-পোকার আক্রমণ কম এবং দ্রুত ফলন পাওয়া যায়—এমন বৈশিষ্ট্যের ধান জাতের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। মাঠ দিবসে এসব বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে ধানের জাত নির্বাচন করা হয়।
স্থানীয় কৃষক গবেষক বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, “গবেষণা প্লট থেকে গোসাই ধানের বীজ নিয়ে গোবর সার ব্যবহার করে জৈব পদ্ধতিতে আবাদ করেছি। এতে ভালো ফলন পেয়েছি এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে।”
কৃষক গবেষক গোসাই দাস রায় বলেন, “বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে গবেষণা প্লটটি পরিচালনা করছেন। কৃষকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এলাকার জন্য উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন করছেন। কম খরচ, কম পানি, কম রোগবালাই এবং দ্রুত ফলনের কারণে কৃষকরা এসব জাতের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।”
বারসিকের সহযোগী সমন্বয়কারী সত্যরঞ্জন সাহা জানান, বরুন্ডির কৃষক নেতৃত্বাধীন প্রায়োগিক ধান গবেষণা প্লট থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ কৃষক বিভিন্ন স্থানীয় জাতের ধান চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, “গোসাই, রাজভোগ, মৌকবুল, সুশীল ও এম-২৫৩সহ বিভিন্ন ধানের জাত বর্তমানে কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করছেন। কৃষকদের মধ্যে বীজ ও জাত বিনিময়ের মাধ্যমে ধানের জাতবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষি সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় জাতের ধান সংরক্ষণ, জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষক নেতৃত্বাধীন এ ধরনের গবেষণা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।