বরগুনা | ৪ জুন ২০২৬ : বরগুনায় এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই কন্যাসন্তানের রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, নিহত পরিবারের সদস্য ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় বরগুনা প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদী জনতার উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারীরা “মা ও দুই সন্তানের খুনিদের ফাঁসি চাই”, “রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই” এবং “প্রশাসনের নীরবতা কেন?”—এমন বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে নিহত গৃহবধূর স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনা নয়। তাদের দাবি, ঘটনাটির পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
নিহতের এক স্বজন বলেন, “আমার বোন ও ভাগ্নিদের মৃত্যু কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। একজন সুস্থ মা কখনো নিজের সন্তানদের নিয়ে এভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন না। আমরা বিশ্বাস করি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাই।”
প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বরগুনার মাটিতে মা ও দুই সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর ও টানা আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার আদায়ের দাবি অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশ থেকে বরগুনা জেলা পুলিশ, সিআইডি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মা ও দুই কন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।