কিশোরগঞ্জ | ২ জুন ২০২৬ :  কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপি ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বনগ্রাম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন সহশ্রাম উপজেলার ধুলাদিয়া ইউনিয়নে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে তার বনগ্রাম বাজারে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে না গিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টু এবং বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে উভয় নেতার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, বল্লম ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নজরুল ইসলামকে বিএনপি নেতা মুঞ্জুরুল হক পিন্টু অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করায় পরবর্তীতে পিন্টুর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন। এতে তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন মাসুদ বলেন, “আজ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টু ও যুবদল সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

এ ঘটনার পর বনগ্রাম বাজার ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।