বগুড়া প্রতিনিধি | ২ জুন ২০২৬
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই এক বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে। অভিযোগের কয়েক মাস পর চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা মামলার পর অভিযুক্ত মো. দোলা হোসেন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত স্থানীয়ভাবে আইসক্রিম বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের প্রতিবেশী। দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তাসূত্রেও পরিচিতি রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ওই স্কুলছাত্রী তার এক বান্ধবীর খোঁজে প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত শিশুটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কা ও সামাজিক সংকোচের কারণে ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।
পরবর্তীতে গত ২৪ মে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা বিষয়টি জানতে চাইলে সে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, শিশুটি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ জুন নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক আফসান এলাহী তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষার স্বার্থে তার নাম, ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।