সুনামগঞ্জ | ২ জুন ২০২৬:
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মুল্লাপাড়া ইউনিয়নের ডুপিকোনা গ্রামের হাওরপাড়ে বসবাসরত অসহায় দিনমজুর ও রংমিস্ত্রি সাজু মিয়ার পরিবারের করুণ জীবনচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দুই সাংবাদিকের প্রচেষ্টা ও সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন সেখ পিপিএমের উদ্যোগে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং খাদ্যসামগ্রী।
জানা যায়, দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি কেএম শহীদুল এবং দৈনিক সুনামকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনকারী সাজু মিয়ার পরিবারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
ভিডিওটি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরব প্রবাসী দুই বাংলাদেশির নজরে আসে। পরে তারা দুই সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাজু মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসননগর মরা টিলা রোড এলাকার এক সৌদি প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১০ হাজার টাকা সহায়তা পাঠান। অপরদিকে সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের আরেক সৌদি প্রবাসীও ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।
বিষয়টি জানার পর সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রতন সেখ পিপিএম তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেন। তিনি নিজে সাজু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেন এবং অতিরিক্তভাবে একটি নৌকা কেনার জন্য ১১ হাজার টাকা, নগদ ৯ হাজার টাকা ও এক বস্তা চাল প্রদান করেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সাজু মিয়া বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবে। ওসি সাহেব, সাংবাদিক ভাই ও প্রবাসীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই সহায়তা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।”
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে সাজু মিয়ার ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহায়তায় পাওয়া ৪৫টি হাঁস দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ১ জুন বিষয়টি নিয়ে তিনি সদর থানার ওসি রতন সেখের শরণাপন্ন হন।
পরে ওসি রতন সেখ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নেন এবং সাংবাদিকদের নিয়ে সাজু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে তার পরিবারের দুর্দশার চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ওসি রতন সেখ জানান, হাঁসগুলো মারা যাওয়ার ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সাজু মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন বলে আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন, সাংবাদিক ও প্রবাসীদের সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।