মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদল দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় অতর্কিত হামলার শিকার হন কবি জাহানারা আরজু উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সিয়াম।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদার।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বহলাতলী বাজারে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদার ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রেজাউল মৃধা যৌথভাবে তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা মোঃ গোলাম রসূল শাহীনের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় বাজারের ডেকোরেটর দোকানসহ আশেপাশের এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় এবং অন্তত শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করা হয়। পরে শাহীনপন্থীরা পাল্টা আক্রমণ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করা হয়।
আহত যুবদল নেতা মাসুম শিকদার জানান, “আমার উপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।” তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমার উপর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা মোঃ গোলাম রসূল শাহীনের অনুসারীরা হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাই
অন্যদিকে, হামলায় আহত স্কুল শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, “আমি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলাম। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাকালীন সময়ে যুবদল নেতা রেজাউল মৃধা ও তার সহযোগীরা দলীয় শ্লোগান দিয়ে আমার উপর হামলা চালায়।”
এ বিষয়ে বলড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রেজাউল মৃধাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিয়ামের উপর আক্রমণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সা’দাত মোঃ শাহীন মোল্লা বলেন, “আমরা মাসুম শিকদারের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।”
এদিকে উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা মোঃ গোলাম রসূল শাহীন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন ঘটনাস্থলে আদোও আমি ছিলাম না। স্থানীয় সূত্রে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমার অনুসারীদের উপর যুবদল নেতা মাসুম শিকদার ও রেজাউল মৃধা সহ তার অনুসারী ও ক্যাডার বাহিনী কতৃক হামলা শিকার হয়েছে। আমি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সহ উপর মহলের কাছে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত মাসুম শিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”