কক্সবাজার | ২৯ মে ২০২৬ : পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত নগরী কক্সবাজারে বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকদের ভিড়। ঈদের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে পর্যটক এসে জড়ো হচ্ছেন সমুদ্রসৈকতে।
স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে হাঁটছেন। অনেকে আবার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মনির আহমেদ বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করতে কক্সবাজার এসেছি। আগামী তিন দিন এখানে থাকবো। ইনানী সৈকত, পাটুয়ারটেক, হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।”
সুগন্ধা পয়েন্টে সেলফি তুলছিলেন ইমরান ও তাহমিনা দম্পতি। তারা জানান, পাহাড়, সাগর ও সূর্যাস্তের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতেই তাদের কক্সবাজারে আসা। তাদের ভাষায়, “সূর্যাস্তের এই দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। ব্যস্ত নগরজীবনে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ খুব কম পাওয়া যায়।”
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের প্রথম দিনে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও শুক্রবার (২৯ মে) থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাদের ধারণা, চলতি ঈদ ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে।
ঈদকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে কক্সবাজারের বিভিন্ন তারকামানের হোটেল ও রিসোর্ট। হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক মিশু জানান, “তিন দিনের ফুড ফেস্টিভ্যালের পাশাপাশি কনসার্টের আয়োজন রাখা হয়েছে। জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট গান পরিবেশন করবে। আমরা আশা করছি, পর্যটকরা ঈদ ছুটিতে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারবেন।”
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও হিমছড়ি এলাকাতেও নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ৮টার পর ছিনতাইসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বাড়তি নজরদারি ও বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন খাত। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও উৎসাহ।