গাজীপুর | ২৬ মে ২০২৬ : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে পুলিশ শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় টিকিট না পেয়ে মহাসড়কজুড়ে দিশেহারা হয়ে ছুটছেন লক্ষাধিক যাত্রী। এতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ যানজট।
সোমবার সকাল থেকেই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঈদযাত্রার চাপ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হঠাৎ করে একযোগে শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রীরা নির্ধারিতভাবে টিকিট কেটে বাসে উঠতে না পেরে সরাসরি মহাসড়কে দাঁড়িয়ে বাস ধরার চেষ্টা করছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার সচল থাকলে নিয়ম মেনে টিকিট সংগ্রহ করে সহজেই বাসে ওঠা যেত। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ থাকায় এখন বাস ধরতে মহাসড়কে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। এতে যানজট ও বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে গেছে।
রংপুরগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “টিকিট কেটে বাসে উঠলে কোনো সমস্যা হতো না। এখন কাউন্টারই বন্ধ। পরিবার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাস ধরতে হচ্ছে। এটা যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তি।”
চন্দ্রা এলাকা উত্তরবঙ্গের ২৫ জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। প্রতি ঈদে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ বাড়ি ফেরেন। তবে এবার কাউন্টার বন্ধের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা-নবীনগর ও চন্দ্রা-গাজীপুর সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সড়কের দুই পাশে আটকে আছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। অনেক যাত্রীকে শিশু কোলে ও মালামাল হাতে নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে দেখা গেছে।
গণপরিবহনের সংকটে অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পুলিশের দাবি, অবৈধ কাউন্টার ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট তীব্র হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই কাউন্টারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
নাওজোড় থানা পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।
তবে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মতে, কাউন্টার পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখলেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হতো। তাদের দাবি, টিকিটবিহীন যাত্রীদের মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের সময় চন্দ্রা এলাকায় যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নতুন কিছু নয়। তবে এবার কাউন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
যাত্রীদের দাবি, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কাউন্টার বন্ধের মতো একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত টিকিট ব্যবস্থা চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।