“বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের বাংগালা গ্রামে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস ও প্রাণবৈচিত্র্য মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনসংগঠন গ্রীন কোয়ালিশনের আয়োজনে এবং উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বলধারা, বায়রা ও জামশা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের কৃষক-কৃষাণিরা অংশ নেন। তারা ১০টি পৃথক স্টলে অচাষকৃত উদ্ভিদ, নিরাপদ সবজি, স্থানীয় জাতের ফল, দেশীয় মাছ, বীজ, জৈব সার, জৈব বালাইনাশক এবং পুকুরের প্রতিকৃতি বাস্তুসংস্থান প্রদর্শন করেন।

মেলায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বলধারা ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশন কমিটির সহ-সভাপতি রেনুকা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং বারসিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ জেলা গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা আক্তার, শিক্ষক কোহিনুর আক্তার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জয়নাল আবেদীন ও সমাজসেবক আউলাদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এছাড়াও বারসিক মানিকগঞ্জের সহকারী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শিমুল বিশ্বাস আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য মেলার উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চাকারী সুভাষ মন্ডল, মজিবর রহমান ও স্বপন রায় পরিবেশসম্মত কৃষি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্থানীয় কৃষক কমলা বেগম, দারোগ আলী শিকদার, ফজলুল হক ও আব্দুল খালেক প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাদের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে মানবদেহে নানা রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও লোকায়ত কৃষি চর্চাকে শক্তিশালী করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা কমিয়ে প্রকৃতি নির্ভর সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নুরানী গঙ্গা ও কালিগঙ্গা নদী খননের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জলজ ও স্থলজ সকল প্রাণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।