কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ | ২২ মে ২০২৬ :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় দিনের বেলায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর চোখ-মুখ বেঁধে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর লুটের ঘটনায় ভুক্তভোগীর আপন ভাইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় লুট হওয়া ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) ভোররাতে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশের অভিযানে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— একই গ্রামের ইনামুদ্দিনের ছেলে মিজান এবং পাশ্ববর্তী দড়িপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে ইমন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানকে জামষাইট এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিজ বাড়ির বসতঘরে চালের বস্তার ভেতরে লুকিয়ে রাখা লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিউলি আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ঘটনার দিন সকালে সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফিরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। পরে রান্নার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তার মুখ চেপে ধরে এবং হাত বেঁধে ফেলে।

একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার অবস্থান জানতে চাপ দেওয়া হয়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানে নেমে মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রবাসীর ভাই মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অপর সহযোগী ইমনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।