কক্সবাজারের রামু উপজেলায় গভীর রাতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রামু থানার এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তাদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা ও সাহসী উদ্যোগে মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক প্রসূতি মা ও সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক।

জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে রামু থানার রাত্রিকালীন মোবাইল-৫২ ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই জাহিদ। তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিএনজি যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

রাত আনুমানিক ৩টার দিকে টহল টিম রাজারকুল সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক উদ্বিগ্ন নারী পুলিশ বহনকারী সিএনজিকে থামার সংকেত দেন।

পরে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সদ্য প্রসব করা নবজাতক সন্তানসহ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মা ও নবজাতক দুজনের জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার কক্ষে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় প্রসূতি মা এবং নবজাতককে দেখতে পান তারা।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পুলিশ সদস্যরা।
তবে গভীর রাত হওয়ায় এলাকায় কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া পুলিশ বহনকারী সিএনজিতেও পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। পরে এএসআই জাহিদ দেওয়ানপাড়া গ্রামের সিএনজি চালক শুক্কুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং তার সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

পরবর্তীতে প্রসূতি মা ও নবজাতককে দ্রুত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। শুধু হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি এএসআই জাহিদ; তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও কিনে দেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় বর্তমানে মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিক এ কর্মকাণ্ডের জন্য এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্সকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এমন মানবিক ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলবে।