আশাশুনি, সাতক্ষীরা | ১৭ মে ২০২৬ :
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন এলাকায় ডিসিআর নেওয়া বৈধ মৎস্যচাষীদের ঘের লুটপাট, বসতবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলক প্রপাগান্ডার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে আশাশুনি প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রীউলা ইউনিয়ন যুবদল-এর আহ্বায়ক এস এম শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ এবং তারেক জিয়া-র নির্দেশনা অনুসরণ করে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনা করে আসছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া ও কলিমাখালী মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের ৩ একর জমিতে ডিসিআর নিয়ে এলাকার কয়েকজন ভূমিহীন শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্যচাষ করে আসছিলেন। গত ১১ মে জেলা তাঁতী দলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপনের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ১০-১২ জন ব্যক্তি ঘেরের বাঁধ কেটে দেয়, ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় এবং পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে। এতে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ভূমিহীন আমিরুল ইসলাম জানান, তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাঁধ কেটে দেওয়া অংশ পুনরুদ্ধার করে। উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলা হলেও প্রতিপক্ষ সেখানে উপস্থিত না হয়ে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে যুবদল নেতা শহিদুল ইসলামকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর প্রচার চালানো হয়।
ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন ইসলাম ও সদস্য ছিদ্দিক গাজী বক্তব্য দিয়ে অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
শহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে শ্রীউলা ইউনিয়নে বিএনপির স্থানীয় একটি পক্ষ বানভাসি ও ভূমিহীন মানুষের প্রায় ৬০-৭০ বিঘা জমি জবরদখল করে রেখেছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি পুলিশ সুপার, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।