রাজশাহী | ৬ মে ২০২৬ :
রাজশাহীর পবা উপজেলায় সিল করা সয়াবিন তেলের বোতলের ভেতরে মাছি পাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফুডেলা ব্র্যান্ডের একটি দুই লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের ভেতরে মৃত মাছি পাওয়া গেছে। পণ্যটি নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর উৎপাদিত।
ভুক্তভোগী ক্রেতা শাহরিয়ার সায়েম জানান, গত শনিবার তিনি পবা উপজেলার পারিলা বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে তেলের বোতলটি ক্রয় করেন। বাড়িতে ব্যবহারের সময় তার মা বোতলের ভেতরে একটি মৃত মাছি দেখতে পান। পরে প্রমাণ হিসেবে বোতলটি খোলা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, তারা ডিলারের মাধ্যমে পণ্য এনে খুচরা বিক্রি করেন। প্রতিটি কার্টনে সাধারণত ছয়টি বোতল থাকে। এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এখন স্থানীয় দোকান থেকে পণ্য কিনতে দ্বিধা প্রকাশ করছেন। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণাদি জমা দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল হান্নান বলেন, সিল করা বোতলের ভেতরে মাছি পাওয়া দূষণের স্পষ্ট প্রমাণ এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-এর রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. আজিজুল হাকিম বলেন, সয়াবিন তেল একটি মাননিয়ন্ত্রিত পণ্য। অভিযোগটি দুঃখজনক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাচের নমুনা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন বা প্যাকেজিং প্রক্রিয়ায় সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সিল করা বোতলে এ ধরনের দূষণ পাওয়া গেলে তা উৎপাদন পর্যায়ের গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। মাছি বা পোকামাকড়ের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু খাদ্যে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আমিনুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং মো. আখতারুজ্জামান জানান, চট্টগ্রামের কারখানায় আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পণ্যটি উৎপাদন করা হয়। ঘটনাটি অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট কোনো ব্যাচে ত্রুটি প্রমাণিত হলে ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেই পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে।