রৌমারী, কুড়িগ্রাম | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক হেক্টর আবাদি জমি। এতে ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অন্তত সাত শতাধিক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে সুখেরবাতি আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গেন্দার আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে আরও কয়েকশ’ পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, চর গেন্দার আলগা, সোনাপুর, পশ্চিম খেদাইমারী, ঘুঘুমারী ও নামাজের চর এলাকায় গত ১০ মাসে অন্তত ৭২০টি পরিবারের বসতবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। এসব পরিবার এখন রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। চর ঘুঘুমারীর বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেওয়া তিন মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছেন। একই এলাকার মো. সরবেশ পাগলা জানান, বারবার ভাঙনে তার পরিবার তিনবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে।
সুখেরবাতি চরের মো. ফুলচান বলেন, তার বাড়ি চারবার নদীতে বিলীন হয়েছে। অন্যদিকে চর গেন্দার আলগা এলাকার মোছা. সুন্দরী খাতুন জানান, তার বসতবাড়ি পাঁচবার ভেঙে গেছে এবং এখন স্থায়ী কোনো আশ্রয় নেই।
ভুক্তভোগী মোছা. আনজুয়ারা বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী ছেলে ও তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মোছা. হাজেরা বেওয়া জানান, শেষ সম্বলটুকুও নদীতে হারিয়ে এখন রাস্তার পাশে বসবাস করছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ভাঙনরোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সমসের আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৭২০টি পরিবারের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে বর্তমানে জরুরি বরাদ্দ নেই।