যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ থাকার ১০ দিন পর পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহত জামিল আহমেদ (২৭) মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের জহুরুল হকের বড় ছেলে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামিলের বাবা জহুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানে থেকেই জামিলের পড়ালেখা ও বেড়ে ওঠা। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তাঁকে ঘিরে ছিল সবার অনেক আশা-ভরসা।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিষবাথান গ্রামের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের ভিড়। সবাই স্তব্ধ, কেউই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না এই মর্মান্তিক খবর। তবে বাড়িতে জামিলের বাবা-মা ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন না; তাঁদের ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
জামিলের চাচা জিয়াউল হক বলেন, “আমার ভাতিজা খুবই মেধাবী ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
জামিলের বাবার বন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই জামিল শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী ছিলেন। বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য একজন মানুষ। তাঁর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।
স্বজনদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জামিলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে তারা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।