নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ | ২৩ এপ্রিল ২০২৬ :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় নদী খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিক আলী হোসেন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার ১০ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত সাংবাদিক আলী হোসেন বর্তমানে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার কামারগাঁও বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের শেরখাই ও নরখাই নদীতে জাইকা প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে খনন কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছিল। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আলী হোসেন।
সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্তও করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত সাব-ঠিকাদার শাহান চৌধুরী ও তার সহযোগীরা সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত আলী হোসেন জানান, ঘটনার দিন তিনি মোটরসাইকেল রেখে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা শাহান চৌধুরীসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাঁর পথরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত-পায়ের হাড় ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সাংবাদিকের পরিবার জানায়, আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে তাঁর অস্ত্রোপচারও করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এখনও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার ১০ দিন পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।