কালিয়াকৈর, গাজীপুর | ২৩ এপ্রিল ২০২৬ :
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলাতেও বেড়েছে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে এবং তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পড়তে বসলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে—কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এতে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী রাসেল বলেন, “পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়বে।”

লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা পর্যাপ্ত চার্জ দিতে না পারায় আয় কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

অটোরিকশা চালক আলামিন বলেন, “আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, আয়ও অনেক কমে গেছে।”

ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মো. জাকির জানান, “সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলার প্রায় ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে কালিয়াকৈর উপজেলায় দৈনিক প্রায় ২৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে সেই পরিমাণ সরবরাহ দেওয়া হলেও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।