হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ | ২২ এপ্রিল ২০২৬ :
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী হিরচর গ্রাম বুধবার (২২ এপ্রিল) পরিণত হয় পরিবেশ সচেতনতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। “আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় বিশ্ব ধরিত্রী দিবস ও কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য মেলা।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে টেকসই কৃষি, দেশীয় ফসল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। “প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ” ও “প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা”—এসব স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

মেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশনের জেলা সদস্য ও নারীনেত্রী লিমা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার তৌহিদুজ্জামান খান। এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল, জহিরুল ইসলাম শুভ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম, কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা সাজজাতুদজামান রবিন, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, ইউপি সদস্য নাসরিন, প্রবীণ শিক্ষক ও সমাজসেবক হরিপদ সূত্রধরসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণমুক্ত রাখা জরুরি। তারা বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ কৃষি এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় উঠে আসে, পদ্মাপাড়ের চরাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙন, অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

হরিপদ সূত্রধর বলেন, “পদ্মাপাড়ের মাটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। এই মাটিকে রক্ষা করতে হলে ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।”

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃষি পণ্যের প্রদর্শনী। এতে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ধানের জাত, বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদ এবং স্থানীয় নারীদের তৈরি পাট ও মাটির হস্তশিল্প প্রদর্শন করা হয়। এতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

এছাড়া কৃষকদের মধ্যে দেশীয় বীজ বিনিময় ও বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা কৃষি বৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীরা প্লাস্টিক বর্জন এবং পদ্মা নদীর তীর পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকার করেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীকী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

মেলায় হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে শত শত কৃষক, কৃষাণী, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটি শুধু একটি দিবস উদযাপন নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই কৃষির পথে এগিয়ে যাওয়ার এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।