রাজশাহী | ২১ এপ্রিল ২০২৬ :
রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার সব ধরনের বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যার ফলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাটোর হয়ে বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও নাটোর জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরমে পৌঁছালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মালিকানাধীন ‘আদনান পরিবহন’ নির্ধারিত নিয়ম বা চেইন মেনে না চলায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বাসটি অনিয়মিতভাবে রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করায় দুই জেলার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।
এ ঘটনার জেরে রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগসহ ঢাকা, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামগামী সব বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং বিকল্প যানবাহনের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
রাজশাহী পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, নাটোরের মাধ্যমে রাজশাহীর বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে নাটোরের মালিকরাও অভিযোগ করেছেন, তাদের বাস রাজশাহীতে গেলে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, প্রায় ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পর একটি বাস পুনরায় রুটে চালু করা হয়। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বাস চলাচল করায় যাত্রী সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে ‘আদনান পরিবহন’ নিয়ম ভেঙে চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, সকালে নাটোরে রাজশাহীর বাস আটকে দেওয়া হয় এবং ঢাকাগামী বাসের কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে রাজশাহী থেকেও ঢাকার বাস ছাড়তে পারেনি।
অন্যদিকে নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজশাহীতেই তাদের ৭-৮টি বাস আটকে রাখা হয়েছে। বরং রাজশাহী থেকেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের দিন উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিরোধ মীমাংসা হলেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ছোট জেলা হওয়ায় নাটোরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।