ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১নং গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক রিয়াছুল আমীন জামাল সিকদারের বিরুদ্ধে মানহানির ষড়যন্ত্র ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝালকাঠি কলেজ রোডস্থ বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা কার্যালয়ে ভুক্তভোগী রিয়াছুল আমীন জামাল সিকদার এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গাভা ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শরীফ সুমন দলীয় কর্মকাণ্ডের সুবাদে তার বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে সুমন শরীফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন। পরে তার স্ত্রীর আচরণে পারিবারিক সন্দেহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সময় ফোনালাপ ও চলাফেরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, সুমন শরীফ তার স্ত্রীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত এবং দীর্ঘদিন পরপর বাসায় ফিরে আসার ঘটনা ঘটত। একপর্যায়ে তার স্ত্রী সংসারবিমুখ হয়ে পড়েন এবং পরে রমজানের কয়েকদিন আগে বাসা থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন জামাল সিকদার।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী নিশাত জাহান ছবি বাসা থেকে যাওয়ার সময় নিজের ও বোনের এনআইডি কার্ড, কৃষি ব্যাংকের চেকবই, কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যান।
পরবর্তীতে তিনি আত্মীয়দের পরামর্শে ১৫ এপ্রিল ঝালকাঠি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান। তবে লিগ্যাল এইডের নোটিশের পরও তার স্ত্রী সাড়া দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল সিকদার অভিযোগ করেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে সুমন শরীফ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরীফ সুমন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।”
অন্যদিকে নিশাত জাহান ছবি বলেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে রিয়াছুল আমীন জামাল সিকদারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে আমি সংবাদ সম্মেলন করেছি। আমার কষ্টের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।